নিক্কেই এশিয়ার জরিপ

ট্রাম্পের শুল্কে এখনো চাপে জাপানের অটো পার্টস শিল্প

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির চাপ জাপানের অটো পার্টস শিল্পে এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির চাপ জাপানের অটো পার্টস শিল্পে এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিক্কেই এশিয়ার এক জরিপ তথ্যানুযায়ী, উচ্চ শুল্কের কারণে খরচ বাড়লেও মাত্র ৪০ শতাংশ জাপানি অটো পার্টস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সে বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে দাম বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আর ছোট ও মাঝারি সরবরাহকারীদের জন্য সঠিক দাম নির্ধারণ এবং তা আদায় চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়তি খরচ পুষিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। জুলাই ও আগস্টে করা আগের জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, প্রায় ৩০ শতাংশ অটো পার্টস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দাম বাড়িয়ে খরচ পুষিয়ে নিতে পেরেছিল। সর্বশেষ জরিপে সে হার বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়ালেও অগ্রগতি এখনো সীমিত। জাপানে সাবকন্ট্র্যাক্টিং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ হওয়ায় ছোট ও মাঝারি সরবরাহকারীদের জন্য উপযুক্ত দাম নির্ধারণ এবং তা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করা তুলনামূলক সহজ হয়েছে। আগে বড় নির্মাতাদের চাপের মুখে অনেক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়াতে পারত না। নতুন বাস্তবতায় সে বাধা কিছুটা কমেছে।

মার্কিন শুল্ক কাঠামো এখনো জাপানের অটো পার্টস শিল্পের জন্য বড় চাপের কারণ হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে জাপানি অটো যন্ত্রাংশ আমদানিতে বর্তমানে ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর। আগে এ হার ছিল ২৫ শতাংশ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর আগে শুল্ক ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

গাড়ির হাইড্রোলিক যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কেওয়াইবির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তাকাশি সাইতো বলেন, ‘গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে দাম সমন্বয় নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত এগিয়েছে।’

বেয়ারিং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এনটিএন জানিয়েছে, শুল্কের কারণে যে বাড়তি খরচ হয়েছে, এর প্রায় ৯০ শতাংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে পণ্যের দাম বাড়িয়ে পুষিয়ে নেয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে সব প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি এক রকম নয়। জরিপে অংশ নেয়া ৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টি এখনো বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের কাছে প্রস্তাব দিলেও জরিপ পরিচালনার সময় পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়ায়নি।

একটি বড় ইঞ্জিন যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, তাদের কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ পণ্যে এখনো দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু জাপানি অটো যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিকল্প কৌশল নিচ্ছে। দুই প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। আরো সাতটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। অনবোর্ড ডিভাইস মোটর প্রস্তুতকারী মিৎসুবার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট নোবুইউকি তাকে বলেন, ‘নিজস্ব উদ্যোগ ও অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে শুল্কের কার্যকর প্রভাব অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।’

বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে জাপানি টায়ার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজস্টোন। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীবাহী গাড়ির টায়ার কারখানায় অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সেখানে উৎপাদন সক্ষমতা আরো প্রায় ২০ লাখ পিস টায়ার বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও